সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫২ অপরাহ্ন
ভারত-পাকিস্তান—দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার উত্তেজনার ইতিহাস পুরোনো। সীমান্তে গোলাগুলি, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর যুদ্ধাবস্থা যেন নিয়তির মতো ঘুরেফিরে আসে। কিন্তু এবার এক ভিন্ন বার্তা এসেছে ভারতের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে। রোববার (১৮ মে) এক উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার বরাতে NDTV জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে যে যুদ্ধবিরতি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে এবং এর কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই।
এই ঘোষণাটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো শুক্রবার জানিয়েছিল—এই যুদ্ধবিরতি ১৮ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ হয়তো শেষের পথে। কিন্তু সেই ধারণাকে একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন ভারতের সামরিক কর্মকর্তারা। তার স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়, নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে সেনাপর্যায়ে যে চুক্তি বা সমঝোতা হয়েছে, তা কোনো সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
অবশ্য এই বিষয়ে রোববার দুই দেশের ডিজিএমওদের (ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি অপারেশনস) মধ্যে কোনো আলোচনা নির্ধারিত ছিল না বলেও জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম।
এই ঘটনাপ্রবাহের পেছনে রয়েছে আরেকটি আকর্ষণীয় মোড়—আর তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা। গত ১০ মে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে জানান, ভারত ও পাকিস্তান একটি “পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে” সম্মত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ রাতভর আলোচনার মাধ্যমে এই সমঝোতা অর্জিত হয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তান—দুই দেশের সরকারি সূত্রও পরে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এমন সময় এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এল, যখন সীমান্তে কয়েকদিন ধরে চলছিল চরম উত্তেজনা ও গোলাগুলি। তাই এই সিদ্ধান্ত অনেকটাই স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে উভয় দেশের জন্য। তবে এখনো প্রশ্ন থেকেই যায়—এটি কি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথে পদক্ষেপ, না কি সাময়িক বিরতি মাত্র?
বিশ্ব রাজনীতি ও কূটনীতির অঙ্গনে এ ঘটনার প্রভাব কতদূর বিস্তার লাভ করবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে অস্ত্রবিরতির এই অস্থায়ী শান্তি যেন স্থায়ী হয়ে ওঠে, এমনটাই প্রত্যাশা বিশ্ববাসীর।